Image description

ইরানের ওপর যেকোনো সময় আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি গুঁড়িয়ে দিতে ওয়াশিংটন এ অঞ্চলে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ও এফ-২২ র‍্যাপ্টর স্টিলথ যুদ্ধবিমানের বিশাল এক বহর পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরাক যুদ্ধের দুই দশক পর মধ্যপ্রাচ্যে আকাশশক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সঙ্গে আছে যুদ্ধ জাহাজের বিশাল বহর। খবর এনডিটিভি, সিএনএন ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এত বিপুল পরিমাণ মার্কিন যুদ্ধবিমান দেখা যাচ্ছে। এ বহরের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানে ঠাসা দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরি ও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল যুদ্ধবিমান, যা বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।

ট্রাম্প ইরানে হামলা চালাবেন কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানা গেছে। হামলার লক্ষ্য কি কেবল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করা, নাকি তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো, তা নিয়েও হোয়াইট হাউসে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে আছে এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-২২ র‍্যাপ্টরের মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। এমনকি শেষ ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

নৌবাহিনীও পিছিয়ে নেই। তারা মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ১৩টি জাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে আছে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং একঝাঁক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ।

বর্তমান প্রস্তুতি শক্তিশালী হলেও ১৯৯১ বা ২০০৩ সালের তুলনায় এটি সীমিত। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে অল্পসংখ্যক যুদ্ধবিমান দিয়েও এখন অনেক বেশি নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা চালানো সম্ভব।