Image description

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন তাঁর দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগার এবং এর পাল্লা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে এক বিরল বার্তায় তিনি আমেরিকাকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আমেরিকা যদি উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে মেনে নেয়, তবেই দুই দেশ ‘একসঙ্গে চলতে’ পারে।

পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পঞ্চবার্ষিক কংগ্রেসে কিম এই মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের আগে কিম আলোচনার একটি পথ খোলা রাখলেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের সব আশা গুঁড়িয়ে দিয়ে কিম দেশটিকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ-এর তথ্যমতে কিম বলেন, “আমেরিকা যদি আমাদের সংবিধানে স্বীকৃত পারমাণবিক অবস্থানকে সম্মান জানায় এবং তাদের শত্রুতামূলক নীতি প্রত্যাহার করে, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় না রাখার কোনো কারণ নেই।” 

তিনি আরও যোগ করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমেরিকার আচরণের ওপর। শান্তি নাকি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত—তা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব এখন ওয়াশিংটনের।

এদিকে, প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার বিষয়ে কিম তাঁর অবস্থানে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। তিনি সিউলকে ‘স্বজাতি’র তালিকা থেকে চিরতরে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “যতদিন দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বের হতে পারছে না, ততদিন তাদের নিরাপদে থাকার একমাত্র উপায় হলো আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং আমাদের একা থাকতে দেওয়া।”

এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ংয়ের এই বক্তব্য একটি বিশেষ কৌশলগত ইঙ্গিত। তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং পারমাণবিক শক্তির স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর