Image description

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এখন ‘প্রকাশ্য যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার আফগান বাহিনীর হামলার জবাবে গতকাল রাতে কাবুল ও কান্দাহারে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সুইডেনভিত্তিক গবেষক আবদুল সায়েদ জানান, পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে দেশটির সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে অভ্যন্তরীণ ও সামাজিক বাস্তবতা।

গবেষক আবদুল সায়েদের মতে, ডুরান্ড লাইনের (আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার ২,৬৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত) দুই পাশে বসবাসকারী উপজাতিগুলোর মধ্যে গভীর সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন রয়েছে। এই নৃ-তাত্ত্বিক সম্পর্কের কারণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করলে যে রক্তপাত হবে, তা অভ্যন্তরীণভাবে সামাল দেওয়া পাকিস্তানের পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে। এটি পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, সামরিক সক্ষমতায় আফগানিস্তান পাকিস্তানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তালেবানের এমন কোনো আধুনিক প্রযুক্তি নেই যা দিয়ে তারা দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংগঠিত বিমান হামলা কার্যকরভাবে প্রতিহত করতে পারবে। তবে তালেবান এই সামরিক অসমতাকে তাদের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে দেখছে না।

তালেবানের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে আবদুল সায়েদ বলেন, অতীতে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর বড় বড় বিমান হামলা সহ্য করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তালেবান যোদ্ধাদের। সেই আত্মবিশ্বাস থেকে তারা মনে করে, পাকিস্তানি বিমান অভিযানের মুখেও তারা টিঁকে থাকতে সক্ষম হবে। এছাড়া তালেবানের একটি বড় শক্তি হলো, বর্তমানে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে এমন কোনো শক্তিশালী বা বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ নেই, যারা তালেবানকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবে।

সব মিলিয়ে, সামরিকভাবে পাকিস্তান সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও ভৌগোলিক বাস্তবতা, জনগণের আন্তঃসম্পর্ক এবং তালেবানের টিঁকে থাকার লড়াকু মানসিকতা এই যুদ্ধকে পাকিস্তানের জন্য একটি জটিল ফাঁদে পরিণত করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর