Image description

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী সংঘাতে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং সদ্য ফেরা আফগান শরণার্থীরা। সীমান্তের আকাশে উড়তে থাকা ধোঁয়ার কুণ্ডলী তাদের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আফগানিস্তানের দিকে পাকিস্তানের ব্যাপক বোমাবর্ষণের পর আফগান সেনাদের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। তোরখাম সীমান্তে ভারী কামান ও গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। আফগান কর্মকর্তাদের মতে, গোলাগুলির একপর্যায়ে পাকিস্তান থেকে ফেরা আফগানদের আশ্রয়স্থল ‘ওমারি ক্যাম্প’-এ একটি মর্টার শেল আঘাত হানে। নানগারহারের জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এক নারী নিহত এবং অন্তত ১৪ জন (৯ নারী ও ৫ পুরুষ) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করে ৬৫ বছর বয়সী প্রত্যাবাসনকারী গান্দার খান বলেন, "নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটছিল। আমি কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেছি।" জারঘোন নামের ৪৪ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি জানান, হামলার পর আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, টাকা ও ত্রাণসামগ্রী ফেলেই পালিয়েছে। এমনকি হামলায় দুই-তিনটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার কথাও জানান তিনি।

মূলত কিছুদিন আগে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আফগান বাহিনী পাল্টা স্থল অভিযান শুরু করলে এই সংঘাত তীব্র রূপ নেয়। এর আগে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহারেও বিমান হামলা চালিয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ওমারি ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং চলমান উত্তেজনায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রা ও জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তোরখামের বাসিন্দা ওয়াকাস শিনওয়ারি ও মুহাম্মদ করিম জানান, তাদের বেঁচে থাকা এই সীমান্তের ওপরই নির্ভরশীল। সাধারণ মানুষের এই চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তারা বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দ্রুত শান্তি ও সমঝোতা না হলে এলাকা ছেড়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

মানবকণ্ঠ/আরআই