Image description

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ইরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, কুয়েতের জেনারেল অথরিটি অফ সিভিল এভিয়েশন নিশ্চিত করেছে যে, একটি ড্রোন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বিমানবন্দরের বেশ কয়েকজন কর্মচারী আহত হয়েছেন এবং যাত্রী ভবনের (টার্মিনাল) উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।

এদিকে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব এবং জাস্ক শহরে হামলার ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি আরও বেড়েছে। হরমোজগান মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রধান জানিয়েছেন, এই দুই শহরে হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৯০ জনেরও বেশি মানুষ। উদ্ধার কাজ এখনও চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তার পরিণতি হবে অত্যন্ত গুরুতর ও ভয়াবহ।’

ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘বর্তমান উত্তেজনা সবার জন্যই বিপজ্জনক। এটি এখনই বন্ধ করতে হবে।’ 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান সরকারকে অবশ্যই বুঝতে হবে তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে বসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্বনেতারা এই সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে রণক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েই চলেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর