Image description

কুয়েতের উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শক্তিশালী একটি ড্রোনের আঘাতে জাহাজটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরবর্তীতে সেটি সমুদ্রে ডুবে যায়। বুধবার (৪ মার্চ) গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও)।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে বিস্ফোরণ ঘটার বিষয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে দ্রুত আগুন ধরে যায় এবং এক পর্যায়ে সেটি সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যায়। জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় এর কার্গো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সাগরের পানিতে মিশে যাচ্ছে, যা সংলগ্ন এলাকায় মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজটি ডুবে যাওয়ার আগেই এর সকল ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ সরাসরি স্বীকার না করলেও প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি ইরানের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলকে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ (ISNA) একজন সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার এই হুমকির পর পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানের জবাবে তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের এই ঘোষণা দিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকি বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরআই