Image description

ইরানে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ১০ম দিনে গড়িয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হানছে তেহরান।  

এসব দেশ থেকে নিজ নাগরিক, এমনকি অনেক সেনা সদস্যকেও সরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। এবার ইরানের হামলার ভয়ে মার্কিনিদের তুরস্ক ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) তুরস্কের আকাশে ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রবেশের দ্বিতীয় চেষ্টার খবরের পর এ নির্দেশনা দিল ওয়াশিংটন।

তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সোমবার (৯ মার্চ) জানায়, ওয়াশিংটন আদানা শহরের নিকটবর্তী তাদের কনস্যুলেট থেকে জরুরি নয় এমন কর্মীদের চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং মার্কিন নাগরিকদের ইরান সীমান্তবর্তী ‘দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক’ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। তুরস্কের বেশ কয়েকটি ন্যাটো ঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও দেশটি এখন পর্যন্ত সরাসরি বড় কোনো আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো ইনসারলিক বিমান ঘাঁটি, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো স্থাপনা এবং কয়েক দশক ধরে মার্কিন সেনারা এটি ব্যবহার করে আসছে। এটি আদানা শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) দূরে অবস্থিত।

দূতাবাস এক্সে জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সোমবার আদানা কনস্যুলেট জেনারেল থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

তারা স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি ভ্রমণ সতর্কবার্তাও উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে অবস্থানরত আমেরিকানদের এখনই এলাকাটি ত্যাগ করতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গত বুধবার ন্যাটো বাহিনী ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে, যার ফলে আঙ্কারা থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ইরান অঞ্চলজুড়ে হামলা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে ন্যাটো তাদের ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অবস্থান’ আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে।