Image description

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তেলের সংকট মোকাবিলায় ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।  

এর অংশ হিসেবে দেশটিতে সরকারি অফিসে সপ্তাহে চার দিন কাজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।  এছাড়াও সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হবে।  খবর ডনের। 

সোমবার (৯ মার্চ) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তাই দেশের সীমিত জ্বালানি মজুত সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব সরকারি দপ্তর সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে ব্যাংকগুলো এ অতিরিক্ত ছুটির আওতায় পড়বে না। কৃষি ও শিল্প খাত এবং হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাগুলোও আগের মতো চালু থাকবে।

দেশের সব স্কুল ও কলেজ আগামী দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে পাঠদান চলবে।

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  তবে কৃষি, শিল্প ও জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য আগামী দুই মাস সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে এবং প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি ব্যবহার বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও গণপরিবহনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দুই মাস ফেডারেল মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা কোনো বেতন নেবেন না। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বেতনে ২৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে।

যেসব সরকারি কর্মকর্তা গ্রেড–২০ বা তার বেশি এবং মাসে তিন লাখ রুপির বেশি বেতন পান, তাদের দুই দিনের সমপরিমাণ বেতন কাটা হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলোর ব্যয়ও ২০ শতাংশ কমানো হবে।

এ ছাড়া কেন্দ্র ও প্রদেশের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সব বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।  প্রয়োজন হলে কেবল জাতীয় স্বার্থে সীমিত কিছু সফর করা হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি বৈঠকগুলো অনলাইনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ইফতার, নৈশভোজ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে সরকারি সভা, সেমিনার ও সম্মেলন হোটেলের বদলে সরকারি স্থাপনাতেই আয়োজন করা হবে।