মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে ভারতের রান্নাঘরে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির জনজীবন। সিলিন্ডার কিনতে ডিলারদের দোকানের সামনে সাধারণ মানুষের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও মিলছে না রান্নার গ্যাস। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস সরবরাহে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত সরকার, যার ফলে দেশজুড়ে হাজার হাজার রেস্তোরাঁ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ভারত এলএনজি আমদানিতে বিশ্বের চতুর্থ এবং এলপিজি আমদানিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশটির রান্নার গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধাবস্থার কারণে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাসের ‘সমতাভিত্তিক বণ্টন’ নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এতে সার কারখানা, চা শিল্প এবং সিরামিক কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর গ্যাস সরবরাহ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের সুযোগে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি গ্যাস কোম্পানিগুলো দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে চলেছে। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত এক সপ্তাহেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। আকাশচুম্বী দাম ও সিলিন্ডার সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ মানুষ। যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি দাবি করেছেন, দেশে কোনো গ্যাসের ঘাটতি নেই এবং বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র মন্ত্রীর আশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত।
ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহকারীরা ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে সারা দেশের রেস্তোরাঁ শিল্প এক নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বেঙ্গালুরুর হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, ছোট রেস্তোরাঁগুলোতে বড়জোর ১-২ দিনের গ্যাস মজুত আছে। সংকট সামাল দিতে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের মেন্যু সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে গুজরাটের টাইলস ও সিরামিক শিল্প মালিকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে ভারতের এই জ্বালানি সংকট ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments