মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত আজ ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত বহু দেশে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে ইরান।
আল-জাজিরা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ দিনের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে ১৩৪৮ জন, ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন, ৭ জন মার্কিন সৈন্য এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ইরান: যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইরান। দেশটিতে নিহত ১৩৪৮ জনের মধ্যে বয়স ৮ মাস থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে। ইরানি প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন নারী এবং মীনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৮টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছেন। দেশটিতে আহতের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার।
ইসরায়েল: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত এবং প্রায় ২ হাজার জন আহত হয়েছেন। ১ মার্চ বেইত শেমেশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭ মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।
লেবানন: ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ৬৮৭ জন নিহত এবং প্রায় ১৫০০ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশসমূহ: ইরাকে ২৬ জন (যোদ্ধা ও বেসামরিকসহ), কুয়েতে এক শিশু ও দুই ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ ৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ সেনাসহ ৬ জন (যাদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন), বাহরাইনে ২ জন এবং ওমানে ১ জন নিহত হয়েছেন। কাতার ও জর্ডানে প্রাণহানি না থাকলেও বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ওপর হামলার জবাব হিসেবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখা হবে।
পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments