মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার এক অভাবনীয় ও বিধ্বংসী মারণাস্ত্র মোতায়েন করল ইরান। প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের বুক চিরে আঘাত হেনেছে ইরানের তৈরি শব্দের চেয়ে ১২ গুণ বেশি গতির ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানার কাছে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। উড্ডয়নকালে গতিপথ পরিবর্তনের বিশেষ ক্ষমতার কারণে একে ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বা ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ নামে ডাকা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ৫৪তম ধাপে তারা ‘ইয়া জাহরা’ সাংকেতিক নামে এই বিশাল হামলাটি চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তেহরান তাদের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সিজ্জিল’ ব্যবহার করল। সিজ্জিলের পাশাপাশি সুপার-হেভি খোররামশাহর, খাইবার এবং ইমাদ ক্ষেপণাস্ত্রও এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানি সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিজ্জিল একটি দুই ধাপবিশিষ্ট কঠিন জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
অবিশ্বাস্য গতি: এটি শব্দের চেয়ে ১২ থেকে ১৩ গুণ বেশি গতিতে (মাক ১৩) চলতে পারে। ফলে ইরান থেকে উৎক্ষেপণের মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে এটি তেল আবিবে আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষা ফাঁকি: উড্ডয়নের প্রতিটি পর্যায়ে এটি দিক পরিবর্তন করতে পারে। এই বহুমুখী গতির কারণেই একে ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বলা হয়, যা রাডারের পক্ষে শনাক্ত করা এবং আয়রন ডোমের পক্ষে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব।
বিশাল পাল্লা: এর পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার। এটি ৭০০ কেজি ওজনের প্রচলিত বা পারমাণবিক—যেকোনো ওয়ারহেড বহন করতে পারে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রবিবার ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির সময় তেল আবিব, হার্জেলিয়া এবং অধিকৃত অঞ্চলগুলোর অন্তত ১৪১টি স্থানে একযোগে সাইরেন বেজে ওঠে। হাজার হাজার বসতি স্থাপনকারী প্রাণভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। ইরানের এই হামলা সরাসরি ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য এখন অগ্নিগর্ভ। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর চালানো প্রতিটি আঘাতের কড়া জবাব দেওয়া হবে। সিজ্জিলের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার প্রমাণ করে যে, ইরান এখন এই যুদ্ধকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও শক্তিশালী মাত্রায় নিয়ে গেছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments