হরমুজ প্রণালি ‘মুক্ত করতে’ ট্রাম্পের চাওয়া সহায়তায় জাপান-অস্ট্রেলিয়ার ‘না’
ইরানকে হটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক জোট গঠনের যে স্বপ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখেছিলেন, তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি রুট ‘মুক্ত’ করতে মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েও এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সাড়া পাননি ট্রাম্প। উল্টো জাপানের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অস্ট্রেলিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই যুদ্ধে কোনো জাহাজ পাঠাবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ আজ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত ইরানের দখলে থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। এমনকি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ন্যাটোর সদস্যরা সহায়তায় এগিয়ে না এলে তাদের ‘ভয়াবহ ভবিষ্যৎ’ দেখতে হবে। এছাড়া চীন সহায়তা না করলে চলতি মাসের নির্ধারিত বেইজিং সফর পিছিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নৌযান পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। উল্লেখ্য, জাপানের ব্যবহৃত তেলের ৯৫ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথেরিন কিং জানিয়েছেন, তাদের কোনো অনুরোধও করা হয়নি এবং তারা জাহাজ পাঠাবেনও না।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল এই পরিকল্পনার প্রতি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা এই সংঘাতের সক্রিয় অংশীদার হতে চান না। ফ্রান্সও জানিয়েছে, তারা তখনই আন্তর্জাতিক মিশন নিয়ে ভাববে যখন যুদ্ধের তীব্রতা কমবে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তবে অন্য দেশগুলোর অনুরোধ তাদের সেনাবাহিনী বিবেচনা করছে। ভারতের সঙ্গে আলোচনার পর সম্প্রতি দুটি ভারতীয় ট্যাংকার পার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের ‘ইরানি নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে’—এমন দাবির মুখে আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “সাহস থাকলে ট্রাম্প তার জাহাজ পারস্য উপসাগরে পাঠিয়ে দেখান।”
বর্তমানে ১০০০-এর বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ালেও যুদ্ধের সরাসরি অংশীদার হতে কেউই বর্তমানে রাজি হচ্ছে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments