Image description

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের তেজ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় ২ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। তেহরানের মূল লক্ষ্য এখন আমিরাতের পরিবহন ও জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ইরানের একটি শক্তিশালী ড্রোন আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুন লাগে। জ্বালানি মজুত কেন্দ্রে এই হামলার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালিয়েছিল ইরানি বাহিনী। ইরান পাল্টা হামলা শুরু করার পর থেকে দুবাই বিমানবন্দর একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান পরিকল্পিতভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। তেহরান মনে করছে, আমিরাতের অর্থনীতি ও জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুললে দেশটির নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ দিতে বাধ্য হবে। তবে আরব আমিরাত মনে করছে, তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বিবিসি’র এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ইরানি হামলায় নমনীয় হওয়ার বদলে আমিরাতের সরকারি কর্মকর্তারা চরম ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত।

ইরানের এই মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন ভয়াবহ আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই