মিত্রদের ‘না’ শুনে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালেও সংকট কাটার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে চরম মিত্র সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মার্কিন আহ্বানে প্রভাবশালী মিত্র দেশগুলো সাড়া না দেওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন পাওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর এমন আচরণকে ‘অকৃতজ্ঞতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এমন অনেক দেশ আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে রক্ষা করে আসছি। কিন্তু আজ যখন একটি বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, তখন তাদের মধ্যে কোনো উৎসাহ দেখছি না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি আরও যোগ করেন, এই সাহায্য চাওয়াটা মূলত ছিল তাদের প্রতিক্রিয়ার একটি পরীক্ষা, যাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সরাসরি নেতিবাচক সাড়া দিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। এছাড়াও স্পেন ও ইতালি জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস সাফ জানিয়েছেন, জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমোদন ছাড়া তারা কোনো সামরিক অভিযানে জড়াতে পারবেন না।
মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, ইরানে হামলা শুরু করার আগে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ করেনি। অথচ এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের বোঝা তাদের ওপরও চেপেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিত্রদের প্রতি তার রুক্ষ আচরণ ও অব্যাহত হুমকির ফলেই এই আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টানা ১৮ দিন ধরে হরমুজ প্রণালি কার্যত ইরানের দখলে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। প্রতিদিন বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ড্রোন ও মাইন ব্যবহার করে এই পথটি বন্ধ রাখায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মিত্রদের এই অনীহা ওয়াশিংটনকে একঘরে করে তুলছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন এককভাবে কোনো পদক্ষেপ নেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments