মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আব্দুল ঘানি জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি এখন থেকে সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি বা প্রভাব অবশিষ্ট নেই।
সিএশিয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির পারস্পরিক শুল্ক নীতি বাতিল করে একটি রায় দেয়। এই আইনি পরিবর্তনের ফলে মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে কুয়ালালামপুর। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
বাতিল হওয়া এই চুক্তির অধীনে মালয়েশিয়া থেকে আমেরিকায় পণ্য আমদানিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত ছিল। বিনিময়ে মালয়েশিয়া মার্কিন পণ্যগুলোকে নিজস্ব বাজারে বিশেষ সুবিধা ও শুল্ক ছাড় দিচ্ছিল। মন্ত্রী জোহারি স্পষ্ট করেছেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে চায়, তবে তার পেছনে অবশ্যই স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে হবে। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতির অজুহাতে ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপ করা যাবে না; বরং সংশ্লিষ্ট শিল্পকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন বাজারে মালয়েশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত। এই চুক্তি বাতিলের ফলে মালয়েশিয়ার ইলেকট্রনিক্স, তেল ও গ্যাস, পাম তেল এবং রাবার খাতের (বিশেষ করে হ্যান্ড গ্লাভস) পণ্যগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মন্ত্রী জোহারি রপ্তানিকারকদের সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশ সংক্রান্ত মানদণ্ড আরও কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
মালয়েশিয়ার এই কঠোর পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যে একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম এবং ভারতের মতো দেশগুলোও মার্কিন শুল্ক নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৫-২০ শতাংশ হারের বিভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন আদালতের রায়ের পর এই দেশগুলোরও বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা (প্রেফারেন্সিয়াল বেনিফিট) এখন কার্যত শূন্য হয়ে যাওয়ার পথে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কৌশলে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হলো, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments