ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) রাতে দেশটির ছোট শহর আরাদ এবং গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা সমৃদ্ধ ডিমোনা শহরে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই হামলা পুরোপুরি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্যমতে, আরাদ শহরে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে চারপাশ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। হামলার পর অন্তত ৮৮ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
এদিকে, ইসরায়েলের অত্যন্ত স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনাতেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সেখানেও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ এই হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে জরুরি আলাপ করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে শহরটির জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সব ফ্রন্টে আমাদের শত্রুদের ওপর কঠোর হামলা চালিয়ে যেতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ ইরানের এই সরাসরি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments