Image description

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো অন্ধকারে ডুবে গেল কিউবা। শনিবার দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আবারও ভেঙে পড়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পুরোনো অবকাঠামো ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের চাপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর এএফপি।

রাত নামতেই রাজধানী হাভানার অধিকাংশ সড়ক অন্ধকারে ঢেকে যায়। মানুষ মোবাইল ফোনের আলো ও টর্চলাইট ব্যবহার করে চলাচল করে। এর মাত্র পাঁচ দিন আগেও একই ধরনের ব্ল্যাকআউট হয়েছিল।

পর্যটনসমৃদ্ধ পুরোনো শহর এলাকায় কিছু রেস্তোরাঁ জেনারেটরের সাহায্যে খোলা রাখা হয়। সেখানে সংগীত পরিবেশন চলতে থাকে। তবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

৬৪ বছর বয়সী হাভানার বাসিন্দা ওফেলিয়া অলিভা বলেন, ‘এটা অসহনীয় হয়ে উঠছে।’

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কিউবান ইলেকট্রিক ইউনিয়ন জানায়, একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটে ত্রুটির কারণে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা’ তৈরি হয়। এতে ধারাবাহিক বিপর্যয় দেখা দেয়।

সংস্থাটি জানায়, হাসপাতাল ও পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাইক্রো-গ্রিড চালু করা হচ্ছে।

দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্ভর করে আটটি পুরোনো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর। এর মধ্যে কিছু কেন্দ্র ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্র প্রায়ই বিকল হয় বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।

হাভানায় প্রতিদিনই ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। দ্বীপের ভেতরের এলাকাগুলোতে এটা ৪০ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।

জানুয়ারিতে কিউবার প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ও তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে আটক হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবায় তেল বিক্রি করে এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

৯ জানুয়ারির পর থেকে দেশটিতে কোনো তেল আমদানি হয়নি। এতে বিদ্যুৎ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হয়েছে, যা পর্যটন খাতের জন্য বড় ধাক্কা।

৯৬ লাখ মানুষের এই দেশে চলমান সংকটের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন হাভানায় সরকার পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, কিউবা দখলের গৌরব আমারই হবে।’