তিন সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এই আলোচনার জন্য তেহরানের সামনে অত্যন্ত কঠোর ছয়টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেপথ্যে কাজ করছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা—লড়াই আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই একটি টেকসই শান্তি চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৬টি প্রধান শর্ত হলো-
১. হরমুজ প্রণালী পুনরায় চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে।
২. ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
৩. আগামী পাঁচ বছর কোনো ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রাখা যাবে না।
৪. নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরডো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।
৫. হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও সমর্থন বন্ধ করতে হবে।
৬. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর পরিদর্শনের আওতায় আসতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনার জন্য তিনটি পাল্টা দাবি জানিয়েছেন—অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যতে আর আক্রমণ হবে না এমন গ্যারান্টি এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষতিপূরণের দাবিকে শুরুতেই ‘আলোচনার অযোগ্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছে। তবে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বর্তমানে কাতার, মিসর ও যুক্তরাজ্য উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে কাতারকে এই প্রক্রিয়ায় প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা যুদ্ধের মোড় পরিবর্তন করবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস নিউজ
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments