ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে পুনরায় হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে আরব উপসাগরে থাকা সমস্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইআরজিসি-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশটির প্রভাবশালী ‘এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজায়ি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। আমাদের জ্বালানি খাতে আঘাত আসলে আমরা আমেরিকাকে অচল করে দেব। এই অচলাবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য তাদের হাতে খুব বেশি সময় বাকি নেই।”
এই হুমকি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘হামলা স্থগিতের’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে এবং আগামী ৫ দিন দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা চালানো হবে না। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরে ইরানের ইসফাহান ও খোরমশহর এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইসফাহান প্রদেশের একটি বড় গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে স্থাপনাটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খোরমশহরের বিদ্যুৎ উৎপাদন সরাসরি ব্যাহত হচ্ছে। ইরাক ও কুয়েত সীমান্ত সংলগ্ন এই শহরগুলোতে হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে গত শনিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে না দেয় তবে তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জন্য তিনি ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প আলোচনার দাবি করলেও ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি।
হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেনি। তবে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই এই আক্রমণ ওয়াশিংটনের কূটনীতি ও সামরিক কৌশলকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments