Image description

ইরানের ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েলের চিকিৎসা ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সরকারি বাজেট কাটছাঁটের ফলে হাসপাতালগুলো এখন রোগীদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভূগর্ভস্থ শেল্টার ও সুরক্ষিত ভবন নির্মাণে ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট সম্প্রতি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ায় হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা অবকাঠামো তৈরি করতে পারছে না। বর্তমানে অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র তাদের স্টোরেজ রুম এবং পার্কিং লটগুলোকে অস্থায়ী ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটার হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। হাদেরার হিল্লেল-ইয়াফে হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক মিকি দুডকিউইচ জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত বর্ষণ চিকিৎসা সেবাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ইসরায়েলের স্টেট কম্পট্রোলার মাতানিয়াহু এঙ্গলম্যানের তথ্যমতে, দেশের হাসপাতালগুলোর প্রায় ৫৬ শতাংশ শয্যা এবং ৪১ শতাংশ অপারেশন থিয়েটারে আদর্শ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতি মানসিক হাসপাতাল ও জেরিয়াট্রিক সেন্টারগুলোর ক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ, যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ শয্যাই সম্পূর্ণ অরক্ষিত। গত জুন মাসে বিয়ারশেবার সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৮০ জন আহত হওয়া এবং আটটি অপারেশন থিয়েটার ধ্বংস হওয়ার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এঙ্গলম্যানের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশের হাসপাতালগুলো সুরক্ষিত করতে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন শেকেল প্রয়োজন। অথচ সরকার উল্টো স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে ৬৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেকেল কর্তন করেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে হাইফার রামবাম হেলথ কেয়ার ক্যাম্পাসের মতো বড় হাসপাতালগুলো তাদের ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটকে আধুনিক ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে যুদ্ধের সময় ৯০০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে হিল্লেল-ইয়াফে হাসপাতালের মতো অনেক কেন্দ্রে নতুন সুরক্ষিত ভবন নির্মাণের কাজ অর্থের অভাবে মাঝপথে থমকে আছে। ৪৫০ মিলিয়ন শেকেল ব্যয়ের এই প্রকল্পের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাত্র ১০০ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ এখন বেসরকারি দাতা ও আন্তর্জাতিক তহবিলের ওপর নির্ভর করছে।

ভলফসন মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর ড. ইউভাল দাদোন জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এত বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা আগে কখনও কল্পনা করা হয়নি। হাসপাতালগুলো সাধারণত মাটির নিচে পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয় না, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের জীবন বাঁচাতে তারা বিকল্প ও সৃজনশীল সমাধান খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর