Image description

চরম নাটকীয়তা আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক কঠোর ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পুরো দেশ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একযোগে শুরু হয়েছে ‘নো কিংস’ আন্দোলন। রাজপথ কাঁপানো এই বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ, যাদের সবার লক্ষ্য একটাই—‘ট্রাম্প হঠাও’।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির অন্তত ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছেন। আমেরিকার এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউরোপের প্যারিস, রোম ও বার্লিনেও মানুষ রাস্তায় নেমেছে।

বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এ দুই নিরপরাধ মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। শনিবারের সমাবেশে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা বলছেন, আমেরিকা কোনো রাজার দেশ নয়; এখানে একনায়কতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই।

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ইরানের সাথে শুরু হওয়া যুদ্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো ঘোষণা ছাড়াই ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় মার্কিন অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন সেনাবাহিনী ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করছেন।

রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন রেকর্ড। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিশাল গণজাগরণ ট্রাম্প প্রশাসনের পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই