Image description

আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। সাইরেনের কানফাটানো শব্দে চারদিকে হুলুস্থুল। সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান বলে, এই সময় মানুষের জীবন বাঁচানোই হবে একমাত্র অগ্রাধিকার। কিন্তু আমরা যাদের কথা বলছি, তাদের ‘কাণ্ডজ্ঞান’ এবং ‘যুদ্ধ জয়ের’ কৌশল কিছুটা ভিন্ন ধাঁচের। 

ইসরায়েলের আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারগুলো এখন আর কেবল প্রাণ বাঁচানোর নিরাপদ আশ্রয় নয়, বরং হয়ে উঠেছে জুম্বা ক্লাস, ডিজে পার্টি আর প্যানকেক উৎসবের এক একটি বিলাসবহুল ভেন্যু!

যুদ্ধ চলছে চার সপ্তাহ ধরে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান ও লেবানন—এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে যখন মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, তখন ইসরায়েলিদের এই ‘অদম্য’ বিনোদন দেখে মনে হতে পারে, তারা যুদ্ধের আশ্রয়ে নয়, বরং কোনো আন্ডারগ্রাউন্ড নাইট ক্লাবে দীর্ঘমেয়াদী ছুটি কাটাতে এসেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র নয়, প্যানকেকের প্রতীক্ষা!

কিবুতজ পালমাচিমের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শাকদ বিটনকে দেখা গেছে এক অদ্ভুত মিশনে। যখনই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাইরেন বাজছে, তিনি তার ট্রে সাজিয়ে নিয়ে হাজির হচ্ছেন স্থানীয় বাংকারে। তবে ট্রের ওপর কোনো জীবনদায়ী ওষুধ বা শুকনা খাবার নয়, বরং সাজানো থাকছে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি আর ম্যাপেল সিরাপ মাখানো গরম গরম প্যানকেক।

বিটন তো বেশ গর্ব করেই বলছেন, “মানুষ এখন আর উদ্বেগের সাথে ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতীক্ষা করে না, তারা অপেক্ষা করে আমার প্যানকেকের জন্য।” শুধু প্যানকেক নয়, ১০ কেজির বিশালাকার এক ‘তিরামিসু’ নিয়ে তিনি পৌঁছে গেছেন তেল আবিবের ‘গান হা-ইর’ মলের বিশাল এক আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে। 

বাংকার যখন কনসার্ট হল ও জুম্বা সেন্টার:
বিনোদন এখানেই থেমে নেই। নামকরা গায়িকা লিহি তোলেদানোকে দেখা গেল এক সাবওয়ে স্টেশনে কনসার্ট করতে। ক্লাবে শো বাতিল হয়েছে তো কী? বাংকারে তো একগাদা ‘বন্দী’ দর্শক পাওয়াই যায়! মজার ব্যাপার হলো, একদিকে যখন তোলেদানো গলা ছেড়ে গান গাইছিলেন, তার ঠিক পাশেই এক ভদ্রলোক তোষক পেতে পরম শান্তিতে নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। যুদ্ধের সাইরেন তাকে না জাগালেও, শিল্পীর গানও তাকে টলাতে পারেনি—একে’ই বোধহয় বলে ‘আসল শান্তি’।

অন্যদিকে, সারা দেশের বাংকারগুলোতে এখন পুরোদমে চলছে জুম্বা, ক্রসফিট আর যোগব্যায়ামের ক্লাস। এমনকি আস্ত জিম ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে পিল্যাটেস করতেও দেখা গেছে অনেককে। মৃত্যু যখন মাথার ওপর ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন ক্যালরি কমানোর এই চিন্তা সত্যিই প্রশংসনীয়!

বিয়ের আসর ও আন্ডারগ্রাউন্ড নাইট ক্লাব:
তেল আবিবের দিজেঙ্গফ সেন্টারের চার তলা নিচে ধুমধাম করে পালন করা হয়েছে আস্ত এক বিয়ে। কোথাও আবার চলছে স্পিড ডেটিং, ফ্লামেনকো নাচ কিংবা হেয়ার ড্রেসিংয়ের সেশন। ফ্লরেনটিন পাড়ার এক ডিজে তো বাংকারেই বসিয়ে দিয়েছিলেন নাইট ক্লাব। সাইরেন বাজতেই যখন সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে বাংকারে ঢুকলেন, ডিজে সাহেব তার মিউজিকের ভলিউম বাড়িয়ে দিলেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে সেই 'আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি' বন্ধ হয়।

মোরিয়া জাখিয়া নামের এক কোরিওগ্রাফার তার প্রতিবেশীদের পাজামা আর বাথরোব পরিয়ে বাংকারের ভেতরেই জনপ্রিয় গানের তালে মিউজিক ভিডিও বানিয়ে ফেলেছেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সেই সাধারণ প্রতিবেশীদের ভাবসাব এখন আকাশচুম্বী। মোরিয়া বলছেন, তারা এখন গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় ‘ময়ূরের’ মতো বুক ফুলিয়ে হাঁটছেন।

এই যে যুদ্ধের মাঝেও ‘উৎসব’ পালন, এটা কি সাহসিকতা নাকি এক ধরণের অদ্ভুত বিলাসিতা—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। মৃত্যু যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ইসরায়েলিরা তখন ব্যস্ত প্যানকেকের স্বাদ নিতে কিংবা বাংকারের মেঝেতে জুম্বা নাচতে। যুদ্ধের বিভীষিকা যেন এখানে এক আন্ডারগ্রাউন্ড সার্কাসে পরিণত হয়েছে।