ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসমের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা ও রহস্যের অবসান ঘটেছে। সিঙ্গাপুরের একটি আদালতের রায়ে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। তবে এবারের আলোচনা কেবল তার মৃত্যু নিয়ে নয়, বরং তাকে দেওয়া এক অনন্য সম্মাননা নিয়ে—অরুণাচল প্রদেশে আবিষ্কৃত এক নতুন প্রজাতির প্রজাপতির নাম রাখা হয়েছে জুবিন গার্গের নামে।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে আয়োজিত ‘নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে’ অংশ নিতে গিয়ে লাজারাস দ্বীপের কাছে স্কুবা ডাইভিং করার সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ৫২ বছর বয়সী এই শিল্পীর। বিদেশের মাটিতে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে অনেকেই ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস পর সিঙ্গাপুর আদালত পুলিশ কোস্ট গার্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত করেছে যে, সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছিল। আদালতের এই রায়ে ভক্ত ও পরিবারের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের অবসান হয়েছে।
মৃত্যুর রহস্য কাটতে না কাটতেই জুবিন গার্গকে ঘিরে সামনে এসেছে এক ব্যতিক্রমী সংবাদ। অরুণাচল প্রদেশের ঘন জঙ্গলে সন্ধান মেলা এক বিরল প্রজাতির প্রজাপতির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘ইউথালিয়া জুবিনগর্গি’ যার সাধারণ নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাসার ডিউক’। গবেষক রোশন উপাধ্যায় এবং কালেশ সদাশিবন এই নতুন প্রজাতির খোঁজ পান এবং শিল্পীর সাংস্কৃতিক প্রভাবকে সম্মান জানাতেই এই নামকরণ করেন।
উল্লেখ্য, এটিই জুবিন গার্গের নামে প্রথম কোনো নামকরণ নয়; এর আগেও মানস জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত একটি নতুন প্রজাতির গাছের নাম রাখা হয়েছিল তার নামে। এছাড়া তার জনপ্রিয় গান ‘মায়াবিনী’র অনুপ্রেরণায় কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের একটি হস্তিশাবকের নামও রাখা হয়েছিল। প্রকৃতির মাঝে বারবার এই বরেণ্য শিল্পীর নাম ফিরে আসা তার অসামান্য জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments