মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসের তুলনায় চলতি এপ্রিল মাসে তেলের সরবরাহ ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।
সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে ফাতিহ বিরলের এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, যা পর্যায়ক্রমে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ফাতিহ বিরল আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাজার থেকে প্রায় ১২ মিলিয়ন (এক কোটি ২০ লাখ) ব্যারেলেরও বেশি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধই এর প্রধান কারণ।
‘ইন গুড কোম্পানি’ পডকাস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি এপ্রিল মাসে তেল সরবরাহে ঘাটতির পরিমাণ মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হবে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।”
আইইএ প্রধানের মতে, মার্চ মাসে তেলের যে চালানগুলো পৌঁছেছিল, সেগুলোর চুক্তি যুদ্ধ পরিস্থিতির আগেই করা হয়েছিল। ফলে চলতি এপ্রিলে সংকটের প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জেট ফুয়েল এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে এশিয়ার কিছু দেশ এই সমস্যার মুখে পড়েছে এবং শিগগিরই ইউরোপেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments