Image description

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশে গত দুই দিনে ৪০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে ইরানের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র বা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরানে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ভবন ছাড়াও উন্নত বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে বুধবার (১ এপ্রিল) শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের নিকটবর্তী বেনি ব্রাক, পেতাহ তিকভা ও রোশ হাইন এলাকায় ঘরবাড়ি ও যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার সময় সাইরেন বেজে উঠলে দেশটির লাখ লাখ মানুষ প্রাণভয়ে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন।

সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। কুয়েত ও আমিরাত দাবি করেছে, তারা তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একাধিক ইরানি মিসাইল ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

একই সঙ্গে লেবানন সীমান্তেও রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযান রুখে দিতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে এবং ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে লড়াইয়ে প্রায় অর্ধশত ইসরায়েলি সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তারা জানিয়েছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সামনে কার্যত অসহায়। ময়দানে প্রতিরোধ ফ্রন্টের শক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই