ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান, আরেকটি দেশকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি ইরানের
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের জাহাজগুলোকে অবাধে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে ইরান। শনিবার ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরাককে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। তবে ‘শত্রু দেশগুলোর’ ওপর এই নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধ কঠোরভাবে বজায় থাকবে। ইরান জানায়, ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং মার্কিন দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ইরাকি জনগণের সংগ্রামকে তারা সম্মানের চোখে দেখে।
এদিকে এই সিদ্ধান্তের মাঝেই ইরানের ওপর চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ট্রাম্পের এই হুমকিকে সরাসরি ‘অসহায়, ভারসাম্যহীন ও বোকামিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই সংঘাত ও অবরোধের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল ইরাক। দেশটির তেল উৎপাদন দৈনিক ৪৩ লাখ ব্যারেল থেকে কমে মাত্র ১২ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছিল। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইরাকের এই অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ইরানের এই বিশেষ ছাড় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments