মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের সমন্বিত হামলা শুরু হয়েছে। পাল্টা হামলায় ইরানি রেভোল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান ও কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আলটিমেটামের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ব তেলের বাজার।
ইসরায়েলে তিন দিক থেকে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'আরুতজ শেভা'র তথ্যমতে, ইরান, লেবানন এবং ইয়েমেন থেকে একযোগে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। রাজধানী জেরুসালেম, বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এইলাতসহ বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের অন্তত ২৮টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান এই হামলায় নিষিদ্ধ 'ক্লাস্টার মিউনিশন' বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করেছে। হাইফা শহরে একটি বহুতল ভবন বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরানি শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা
পাল্টা অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আইআরজিসি-র গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ খাদেমি এবং কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ 'সন্ত্রাসী হামলায়' এই শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রাণ হারিয়েছেন বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে।
ইরানে হামলা ও পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
এদিকে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অত্যন্ত কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর 'ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার' সতর্কতা জারি করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রটির সীমানা প্রাচীর থেকে মাত্র ৭৫ মিটার দূরে আঘাত হেনেছে। এছাড়া, দক্ষিণ পার্স অঞ্চলের আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত ৬ শিশুসহ ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান সমঝোতায় না পৌঁছালে এবং মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিপরীতে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির শর্তে তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না এবং শত্রু দেশগুলোর জন্য এই পথ বন্ধ থাকবে। আইআরজিসি জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ আর 'কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না'।
যুদ্ধবিরতির শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা
অস্থিরতার মাঝেই পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে একটি ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments