Image description

দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডে তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা ছাড়াও রাজধানীর উত্তরা ও বনানী থানায় পৃথক আরও ৬টি মামলা রয়েছে। তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আজ দুপুরের দিকেই তাকে আদালতে তোলা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে যান। ওইদিন ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় তিনি ভবনটির একটি গোপন কক্ষ বা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন ওঠে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি এসেছে রংপুর থেকে। গত বছরের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার। এজাহার অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে মুসলিম উদ্দিন নিহত হন। এ ঘটনায় শিরীন শারমিনসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার উত্তরা ও বনানী থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও তাকে আসামি দেখানো হতে পারে।

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে সোপর্দ করার সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তার গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর