Image description

ইরানের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর তাকে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আরও রয়েছেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। এই সফরকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার।

এদিকে, ইসলামাবাদে এই আলোচনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাইস প্রেসিডেন্টকে শুভকামনা জানিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে শুভকামনা জানিয়েছি।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনা দীর্ঘমেয়াদী হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। তবে বিকল্প কোনো পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘বিকল্প পরিকল্পনার কোনো প্রয়োজন নেই।’

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সংলাপে অংশ নিতে শুক্রবার রাতেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের গভীর অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘ইরানের সদিচ্ছা থাকার পরও আমেরিকানরা এর আগে আলোচনার মাঝপথে আমাদের ওপর হামলা করেছে এবং অসংখ্য যুদ্ধাপরাধ করেছে। আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু আমেরিকানদের ওপর আমাদের আস্থা নেই।’ তবে তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি একটি প্রকৃত চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ইরানি জাতির অধিকার মেনে নেয়, তবে ইরানও আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক সাড়া দেবে।

ইসলামাবাদে এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে কোনো কার্যকর সমাধান আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর