ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করে, তবে বেইজিংও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই খবরের পরই বেইজিংয়ের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প গত রোববার বলেন, "মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা করে থাকে, তবে তারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে। তেহরানকে সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী চীনা পণ্যের ওপর ‘বিস্ময়কর’ নতুন শুল্ক চাপানো হবে।"
তবে বেইজিং এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, "মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই অজুহাতে যদি যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ায়, তবে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।" তিনি আরও যোগ করেন, চীন সামরিক পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বদা আন্তর্জাতিক আইন ও দায়বদ্ধতা মেনে চলে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তার অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করার চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চীন সরাসরি নয় বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এসব অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ‘ম্যানপ্যাড’ নামক কাঁধ থেকে ছোড়া বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং, যা নিচু দিয়ে উড়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য বড় হুমকি। উল্লেখ্য, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেই ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক চুক্তি না থাকলেও দেশ দুটির সম্পর্ক মূলত ‘তেলের বিনিময়ে অস্ত্র’ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বেইজিং ইরানকে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের উপকরণ সরবরাহ করছে। বর্তমানে এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments