বিশ্বনাথে পেট্রোল মজুদ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৪
সিলেটের বিশ্বনাথে জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১২০ লিটার পেট্রোল জব্দ করেছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের বাওনপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাওনপুর গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মাহবুব আহমদ ও দবির মিয়ার ছেলে রাহীন মিয়া অধিক মুনাফার আশায় নিজ বাড়িতে ড্রাম ভর্তি করে পেট্রোল মজুদ করছিলেন। রাহীন মিয়ার চাচাতো ভাই নাঈম (পেশায় গাড়িচালক) বিষয়টি দেখে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহবুব ও রাহীন তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— দবির মিয়ার স্ত্রী, তার ছেলে রাহীন মিয়া, মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মাহবুব রহমান এবং বাদশা মিয়ার ছেলে নাঈম। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পাঁচটি ড্রামে রাখা আনুমানিক ১২০ লিটার পেট্রোল জব্দ করে। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানার এসআই স্বপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে মাহবুব আহমদ ও রাহীন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১০, তারিখ: ১৪/০৪/২০২৬ইং)।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শেখ ফজর রহমান জানান, এলাকাবাসী তেল ভর্তি ড্রামগুলো জব্দ করে তার জিম্মায় দিলে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে সেগুলো নিয়ে যায়।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, "অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদের খবর পেয়ে পুলিশ ১২০ লিটার তেল জব্দ করেছে। এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments