ঈদুল আজহার ছুটিতে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো পর্যটকের ভিড় দেখা যায়। সাগরের নোনাজল আর বালিয়াড়িতে সব বয়সী মানুষের মিলনমেলা বসেছে। পর্যটকদের আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে ও নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে লাইফগার্ড এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সৈকতের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, সাগরের ঢেউ আর নোনাজলের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন হাজারো পর্যটক। তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে কেউ নামছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন সৈকতের নির্মল সৌন্দর্য।
শুধু সমুদ্রস্নানই নয়, সৈকতের বালিয়াড়ি, কিটকটসহ বিনোদন স্পটজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো সৈকত এলাকা।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হোসনা হুরাইন বলেন, ‘শহরের ব্যস্ত জীবনে প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ খুব কম মেলে। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে আসা।’
সাগরতীরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। এই ভিড়ের মাঝে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, তাই তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরে নিরাপদ গোসল নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।
সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে। তবে বর্তমানে সমুদ্র বেশ উত্তাল রয়েছে এবং বড় বড় ঢেউ দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফগার্ড কর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’
তিনি বলেন, সৈকতের তিনটি পয়েন্ট এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ওয়াচটাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, পাশাপাশি পেট্রল টিম নিয়মিত টহলে রয়েছে। যেসব স্থানে পানির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে রেসকিউ বোর্ডসহ অতিরিক্ত লাইফগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব সৈকত এলাকায় লাইফগার্ড সেবা নেই, সেসব স্থানেও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদ লাইফগার্ড সেবা এলাকায় স্নান করেন।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াডের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), মোবাইল টিম ও স্ট্যান্ডবাই টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঈদের টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক দিনও কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পর্যটকরা কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় ও বিনোদনকেন্দ্রও ঘুরে দেখছেন।




Comments