ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করে বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন করে নজরে এসেছে পাকিস্তান। প্রথম দফার আলোচনা শেষে এখন চলছে দ্বিতীয় দফার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুসলিম বিশ্বের তিন প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) তিনি এই সফরের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে তিনি সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তার পরবর্তী গন্তব্য কাতার। দোহায় কাতারি নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি ছাড়াও আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন তিনি।
কাতার সফর শেষ করে শাহবাজ শরিফ পৌঁছাবেন তুরস্কে। সেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে তার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি তুরস্কে আয়োজিত ‘পঞ্চম আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে’ অংশ নেবেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। এই সফরগুলো পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে নতুন বার্তা পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। বরং বড় ধরনের একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও সুর মিলিয়ে বলেছেন, কেবল সীমিত কোনো চুক্তি নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী সমাধান চায় ওয়াশিংটন। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় লাগলেও ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা শাহবাজ শরিফের তিন দেশ সফরকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments