নৈশভোজে হামলাকারীর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
ওয়াশিংটন ডিসির ‘ওয়াশিংটন হিলটন’ হোটেলে আয়োজিত বার্ষিক ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস নৈশভোজ’ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এক ভয়াবহ হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা এই ঘটনার পেছনে গভীর ‘ট্রাম্প-বিরোধী’ মনোভাবকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
শনিবার রাতে হোটেলের নিরাপত্তা চৌকিতে কোল টমাস অ্যালেন (৩১) নামে এক যুবক এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের দিকে শটগান দিয়ে গুলি ছোড়েন। গুলিটি এজেন্টের সুরক্ষা ভেস্টে লাগায় তিনি গুরুতর আঘাত থেকে বেঁচে যান। গুলি চালানোর পরপরই হামলাকারী হোটেলের ভেতর দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাকে কাবু করে হেফাজতে নেন। ঘটনার সাথে সাথেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কে এই হামলাকারী?
ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা কোল টমাস অ্যালেন গত কয়েক দিন ধরেই ওই হোটেলের অতিথি হিসেবে অবস্থান করছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ট্রেনে করে শিকাগো হয়ে ওয়াশিংটনে পৌঁছান।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি দোকান থেকে তিনি বৈধভাবেই বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিলেন, যা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে লুকানো ছিল। সোমবার তাকে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সাপেক্ষে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও যুক্ত হতে পারে।
ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট আগে অ্যালেন তার পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তার ভাই বিষয়টি কানেকটিকাটের নিউ লন্ডন পুলিশকে জানালে তারা দ্রুত ফেডারেল সংস্থাকে অবহিত করে। তবে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই হামলার ঘটনাটি ঘটে যায়।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট কর্তৃক প্রকাশিত অ্যালেনের একটি ‘ইশতেহার’ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা, যা তিনি নিজেই লিখেছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে একজন “বন্ধুত্বপূর্ণ ফেডারেল ঘাতক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইশতেহারে তিনি একটি ‘হিট লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করেন, যার শীর্ষে ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে তিনি লক্ষ্যবস্তুর বাইরে রেখেছিলেন।
ইশতেহারে তিনি বর্তমান প্রশাসনকে “বিশ্বাসঘাতক” ও “শিশু নিপীড়ক” হিসেবে অভিযুক্ত করে লেখেন, “আমি আর একজন বিশ্বাসঘাতককে তার অপরাধে আমার হাত কলঙ্কিত করার সুযোগ দিতে রাজি নই।” এছাড়া পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে রোববার ‘সিক্সটি মিনিটস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাকারীকে একজন “বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেনন। হামলার সময় তিনি আতঙ্কিত ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমি চিন্তিত ছিলাম না। আমরা এক উন্মাদ জগতে বাস করি।” তবে ইশতেহারের অংশবিশেষ সরাসরি সম্প্রচারে পাঠ করার জন্য তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি স্পষ্ট যে হামলাকারী সুনির্দিষ্টভাবে প্রশাসনের সদস্যদের লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালিয়েছিল। বর্তমানে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস।
_দি গার্ডিয়ান




Comments