বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ বছর পর জেনারেটর চালু, তেলের অভাবে অনিশ্চয়তা
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ১৫ বছর পর পুনরায় চালু করা হয়েছে জেনারেটর। তবে তেলের বরাদ্দ না থাকায় এটি নিয়মিত চালু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুর রউফ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে জেনারেটর চালুর মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুমেন সিকদার হাসপাতালের ভেতরের দুরবস্থার চিত্র ধারণ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন এবং হাসপাতাল গেটের সামনে প্রতিবাদও করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এরপর উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আলতাফ ও তার ছেলে বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসেন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে সরকারি অনুমতি নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘদিন অকেজো থাকা জেনারেটরটি মেরামতের উদ্যোগ নেন।
তাদের এই উদ্যোগে অবশেষে ১৫ বছর পর জেনারেটরটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ না থাকলেও জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুর রউফ বলেছেন, ‘আমি একাধিকবার জেনারেটর মেরামত ও তেলের বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় জেনারেটরটি চালু করা গেলেও তেল ছাড়া এটি নিয়মিত চালানো সম্ভব নয়। তেলের ব্যবস্থা করা গেলে সেবা কার্যক্রম আরও স্বাভাবিক রাখা যাবে।’
স্থানীয়দের মতে, জেনারেটর চালু হওয়া ইতিবাচক হলেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।




Comments