Image description

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এক ‘নতুন অধ্যায়ে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি জানান, এই নতুন ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক উন্নতি ও কল্যাণ বয়ে আনা।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এই মন্তব্য করেন। বার্তায় তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সামরিক আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শোচনীয় পরাজয়ের দুই মাস পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এখন এক নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন। এই অঞ্চলকে শত্রুদের অপব্যবহার থেকে মুক্ত রাখতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে তেহরান কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।”

মোজতবা খামেনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন এই ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি সক্রিয় হলে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপকভাবে লাভবান হবে।

উল্লেখ্য, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক জলপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান এই প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল।

পরবর্তীতে ইরান সরকার ঘোষণা করে, যুদ্ধরত পক্ষগুলো ছাড়া অন্যান্য দেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং নির্দিষ্ট ‘টোল’ প্রদানের মাধ্যমে এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। গত মার্চে ইরানের পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, অনুমোদিত তেলবাহী জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার হারে টোল প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে ইরানের এই একক সিদ্ধান্ত এবং টোল আদায়ের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় ছয়টি দেশ সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের টোল দিতে রাজি নয়।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে ‘নতুন অধ্যায়ে’র এই বার্তা এলো, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর