Image description

ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়ায় এখন বড় ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট তাঁর নির্বাহী ক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৬০ দিন সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। সেই সময়সীমা বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

হোয়াইট হাউস এই সময়সীমা মানার বিষয়ে অনীহা দেখানোয় নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে আইআরজিসি।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের আকাশে প্রায় ২০ মিনিট ধরে ‘ছোট বিমান ও নজরদারি ড্রোন’ লক্ষ্য করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েন করলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। গত মার্চের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে অভিযানের কথা জানানোর পর থেকেই এই সময় গণনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের মধ্যে আইনপ্রণেতারা এই মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন না দিলে মার্কিন বাহিনীকে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সময়সীমা পার হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইনত অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারেন। তিনি রিপাবলিকানদের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প স্পষ্টতই ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করছেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৬০ দিনের সময়সীমা গণনার ঘড়ি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, "যেহেতু ৭ এপ্রিলের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর কোনো সরাসরি হামলা বা গোলাগুলি হয়নি, তাই ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা ওই দিনই স্থগিত হয়ে গেছে।"

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা আবারও ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। এ অবস্থায় কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যকার এই সাংবিধানিক বিরোধ মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর