Image description

দুই দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্য এবং টানা ১১ বছরের শাসন শেষে বড়সড় পতনের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, বাংলার ‘ঘরের মেয়ে’র আবেগ সরিয়ে রেখে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন রাজ্যের মানুষ। এক দশকেরও বেশি 

সময় পর পশ্চিমবঙ্গ হতে যাচ্ছে ‘মমতাহীন’ বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনমুক্ত।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ইতোমধ্যে ১৯৮টি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ম্যাজিক ফিগার’ অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গেছে মাত্র ৮৯টি আসনে। অর্থাৎ ব্যবধানটা এখন ১০০-এর বেশি।

২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে যে শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, তার কেন্দ্রে ছিল জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্য সাথী কিংবা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে এক অপরিহার্য নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তৃণমূলের প্রচারণার মূল অস্ত্রই ছিল মমতার মানবিক ভাবমূর্তি। কিন্তু এবারের ভোটের ফলাফল বলছে, কেবল সরকারি ভাতায় মানুষের মন আর ভরেনি। মাঠপর্যায়ের দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং দীর্ঘ দিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত মমতার সেই ‘মায়া’র প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন ছিল ‘আবেগ বনাম বাস্তবতা’র লড়াই। যেখানে মমতার ব্যক্তি-কারিশমা ম্লান হয়ে গেছে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ও পরিবর্তনের স্লোগানের কাছে। যদি এই পরিসংখ্যানই চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। প্রতীকীভাবে একে বলা হচ্ছে ‘পদ্মফুলের উত্থান’।

ক্ষমতার এই পটপরিবর্তন আবারও মনে করিয়ে দিল—রাজনীতি মায়ার ওপর নয়, বরং জনমত ও গণিতের ওপর চলে। টানা এক দশকের বেশি সময় পর এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গ।

মানবকণ্ঠ/আরআই