ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইরান ইস্যুতে ‘কড়া পদক্ষেপ’ চায় যুক্তরাষ্ট্র
ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমাতে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৬ মে) এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ঝুলে থাকা নিরাপত্তা ও আর্থিক সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ইরাকের ক্ষমতাসীন জোট নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলি আল-জায়েদির নাম প্রস্তাব করার পর তাকে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরাকি রাষ্ট্রের যে ‘অস্পষ্ট সম্পর্ক’ রয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তা দূর করতে হবে।
ইরাক যুদ্ধের পর থেকে দেশটির তেলের আয়ের নগদ অর্থ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের মাধ্যমে লেনদেন করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন স্থাপনায় হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র এই নগদ অর্থ সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহায়তা স্থগিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই সহায়তা পুনরায় চালু করতে হলে ইরাককে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের সরিয়ে দিতে হবে, সরকারি বাজেট থেকে তাদের অর্থায়ন ও বেতন প্রদান বন্ধ করতে হবে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ৬০০-র বেশি হামলা হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামলার মাত্রা কমলেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। ওয়াশিংটন চায় নতুন প্রধানমন্ত্রী একটি স্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা দেবেন যে, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকি রাষ্ট্রের কোনো অংশ নয়।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। মালিকির বিরুদ্ধে ইরানের ঘনিষ্ঠতা ও সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন সতর্ক করেছিল যে, তিনি ক্ষমতায় এলে সব ধরনের মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে আলি আল-জায়েদির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমিয়ে মার্কিন প্রশাসনের আস্থা অর্জন করা।
সূত্র- আল আরাবিয়া
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments