পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয়তা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। বরং তিনি চান কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করুক, যাতে সেই দিনটিকে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দলের বিধায়কদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মমতা তার এই অনড় সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকুক।’
বৈঠকে মমতা অভিযোগ করেন, ২৯ এপ্রিল থেকে রাজ্যে যে সহিংসতার কথা বলা হচ্ছে, তা পরিকল্পিত। এই সহিংসতার বিরুদ্ধে তার দল আদালতে যাবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দলের ভেতর বিশৃঙ্খলা রুখতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করেছেন তিনি। মমতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দায়ী করেছেন ৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী। কমিশনের বিরুদ্ধে ‘নোংরা খেলা’র অভিযোগ তুলে তিনি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের উদাহরণ টেনে আনেন। তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করেছেন, নতুন বিধানসভা শুরুর দিনটিকে তার দল ‘কালো পোশাক দিবস’ হিসেবে পালন করবে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, রাজ্যে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটছে না। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের তুলনায় এখনকার ঘটনা অত্যন্ত নগণ্য। কিছু গুন্ডা এখনো সক্রিয় থাকলেও বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদত্যাগ না করার ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছে। সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল বিপক্ষে গেলে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। কিন্তু মমতা সরতে রাজি না হওয়ায় এখন সব নজর রাজ্যপালের (গভর্নর) ওপর। টেকনিক্যালি রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন, তবে সাধারণত এই পরিস্থিতিগুলোতে আস্থা ভোট বা নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) শেষ হচ্ছে। হাতে সময় না থাকায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাসহ বিজেপির অনেক নেতা মমতাকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments