Image description

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ। সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) অবতরণের পরপরই উড়োজাহাজটির চাকায় আগুন ধরে যায়। এতে বিমানের ভেতরে থাকা ২৭৭ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রুর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জ্ঞানেন্দ্র ভুল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানান, ইস্তাম্বুল থেকে আসা ফ্লাইটটি রানওয়ে স্পর্শ করার সময় ডান দিকের ল্যান্ডিং গিয়ারে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে স্ফুলিঙ্গ (স্পার্ক) সৃষ্টি হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে একপাশের দুটি চাকায় আগুন ধরে যায়। তবে বিমানবন্দরের উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন লাগার পরপরই উড়োজাহাজটির জরুরি নির্গমণ পথ (ইমার্জেন্সি এক্সিট) খুলে দেওয়া হয়। সব যাত্রী ও ক্রুকে দ্রুত এবং নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী সামান্য চোট পেলেও তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।

ত্রিভুবন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসপি রাজকুমার জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়েটি প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়। ফলে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বহু ফ্লাইট আকাশে চক্কর দিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে রানওয়ে পরিষ্কার করে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

উল্লেখ্য, হিমালয়বেষ্টিত নেপালের রানওয়েগুলো ভৌগোলিক কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দেশটির বৈরী আবহাওয়া ও পাহাড়ঘেরা ভূখণ্ডে বিমান পরিচালনা অভিজ্ঞ পাইলটদের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে ২০১৫ সালে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান এই বিমানবন্দরেই রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছিল।

নেপালের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলো বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। আজকের এ ঘটনাটি আবারও নেপালের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই