Image description

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরণের পরাজয়ের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নিজ দলের ৮০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্যের (এমপি) পদত্যাগের দাবির মুখে আজ মঙ্গলবার নিজের মন্ত্রিসভার মুখোমুখি হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী পদে স্টারমারের থাকা না-থাকা নিয়ে তার মন্ত্রিসভা এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। মঙ্গলবার তারা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব ড্যারেন জোন্স স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন, স্টারমার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন, তবে তিনি পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

এদিকে, পরিস্থিতি ক্রমশ স্টারমারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তদারকি করতে বলেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সোমবার ছয়জন মন্ত্রীর সহকারী পদত্যাগ করেছেন। আজ মঙ্গলবার সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতা হস্তান্তর, ধর্ম ও সম্প্রদায় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মিয়াট্টা ফানবুলেহ। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, স্টারমার “জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়েছেন” এবং দেশের স্বার্থে একটি সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবারের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ১,৪০০-এর বেশি আসন হারিয়েছে। বিশেষ করে ওয়েলসে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, যেখানে রিফর্ম ইউকে এবং গ্রিনস দল বড় ধরণের সাফল্য পেয়েছে। স্টারমার এই পরাজয়ের দায়ভার গ্রহণ করলেও কনজারভেটিভদের আমলের মতো “নেতা পরিবর্তনের বিশৃঙ্খলা” লেবার পার্টিতে ফিরে আসুক—তা তিনি চান না বলে মন্তব্য করেছেন।

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য কমন্সে দলের ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে সেই সংখ্যক এমপি স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন:
১. স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং (যার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চালানোর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক শ্যাডো চ্যান্সেলর জন ম্যাকডনেল)।
২. সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার (তবে কর সংক্রান্ত তদন্তের কারণে তার প্রার্থিতা সংকটে রয়েছে)।
৩. গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (যিনি বর্তমানে এমপি নন এবং যাকে স্টারমার অতীতে প্রার্থী হতে বাধা দিয়েছিলেন)।

জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ:
২০২৪ সালে বড় জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও দ্রুত স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকটের মধ্যে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত এবং গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রতি নমনীয় নীতি তাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলার কঠোর সমালোচক রিফর্ম ইউকে এবং গ্রিন পার্টির সমর্থন নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকটি কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ সামলাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।