ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ, হামলা সামলে ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি সচল করেছে ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুনরায় সামরিক সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে ইরান। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ইরানের সামরিক শক্তি ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ দাবি করলেও মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের একটি গোপন প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর ৯০ শতাংশই এখন পুরোপুরি সচল এবং যেকোনো মুহূর্তে পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। মে মাসের শুরুতে তৈরি করা ওই গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো ভয়াবহ হামলার পরও ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ যন্ত্র (মোবাইল লঞ্চার) সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রু জাহাজগুলোর দিকে তাক করা রয়েছে। তেহরান থেকে চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই এসব বাহিনী একযোগে বড় ধরনের হামলা চালাতে সক্ষম।
তবে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও ইরানের সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, “ইরান ভালো করেই বোঝে যে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয়। যারা ভাবছেন ইরান তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তারা হয় বিভ্রান্তিতে আছেন, না হয় ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস করছেন।”
উল্লেখ্য, যুদ্ধের সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি দাবি করেছেন, তারা যুদ্ধের আগের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। গত শনিবার তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুর প্রতিটি নড়াচড়ার ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন গোয়েন্দাদের এই গোপন প্রতিবেদন এবং হোয়াইট হাউসের অস্বীকারের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার এক নতুন ও জটিল সমীকরণ সামনে এসেছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments