মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ এশিয়া সফরের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে চীনকে প্রধান জামিনদার বা ‘গ্যারান্টর’ হিসেবে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেছে ইরান। তেহরান মনে করছে, কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয়, বরং চীন ও রাশিয়ার মতো বিশ্বশক্তির শক্তিশালী নিশ্চয়তা থাকলেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমঝোতা টেকসই হতে পারে।
বর্তমানে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়ে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীনকে ‘কৌশলগত অংশীদার’ এবং ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুররেজা রহমানি ফাজলি সম্প্রতি এই সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে তা অবশ্যই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে হবে। চুক্তির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি থাকতে হবে।’ এই প্রেক্ষাপটে তিনি বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, ইরানসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর কাছে চীনের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ফলে বেইজিং অনায়াসেই যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টর হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের মুখে ইরান এখন চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তেহরান বিশ্বাস করে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্থির পররাষ্ট্রনীতির বিপরীতে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তির গ্যারান্টি তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments