ছবি: আল জাজিরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী এবং কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ব্যাপক অভিযান ও হামলা চালিয়েছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (Wafa) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত একজন ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং বেসামরিক মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার রাতে হেবরনের (আল-খলিল) নিকটবর্তী আদ-ধাহিরিয়া এলাকায় এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক আহত হন।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ওই যুবকের উরুতে গুলি লেগেছে এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, রামাল্লার নিকটবর্তী শুকবা গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং আরও চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা নিকটবর্তী খামারবাড়িগুলোতেও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে।
সালফিত প্রদেশের আজ-জাওয়িয়া গ্রামে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গভীর রাতে অভিযান চালায়। সৈন্যরা সাধারণ বাসিন্দাদের বাড়িঘরে ঢুকে তল্লাশি চালায় এবং হয়রানি করে। অভিযানের সময় গ্রামের প্রধান সড়কটি ইসরায়েলি বাহিনী দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে রাখে।
বেথলেহেম প্রদেশেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী নাহালিন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর তারা দেইশেহ শরণার্থী শিবিরে প্রবেশ করলে স্থানীয় যুবকদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি সৈন্যরা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস (টিয়ার শেল) নিক্ষেপ করে।
এছাড়া, জেনিন প্রদেশের জাবা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ মানুষের যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং দীর্ঘ সময় যানজট সৃষ্টি করে রাখে।
গত ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর ছত্রছায়ায় বসতি স্থাপনকারীরা নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ধ্বংস করে আসছে, যা ওই অঞ্চলে এক মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।
— তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও ওয়াফা।




Comments