Image description

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্যাস স্টেশনগুলোর জ্বালানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক সাইবার হামলার পেছনে ইরানি হ্যাকাররা রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন মার্কিন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। যদিও এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। _ সিএনএন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হ্যাকাররা অনলাইনে থাকা পাসওয়ার্ডবিহীন 'অটোমেটিক ট্যাঙ্ক গেজ' (এটিজি) সিস্টেমগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এই সিস্টেমগুলো মূলত ট্যাঙ্কে থাকা জ্বালানির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে। হ্যাকাররা কিছু ক্ষেত্রে ট্যাঙ্কের ডিসপ্লে রিডিং পরিবর্তন করতে সক্ষম হলেও জ্বালানির প্রকৃত পরিমাণে কোনো হেরফের করতে পারেনি।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, তাত্ত্বিকভাবে এই সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পেলে হ্যাকাররা বড় ধরনের গ্যাস লিক বা ছিদ্র হওয়ার তথ্য গোপন রাখতে পারে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইরানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন পানি সরবরাহ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে যুক্ত হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল।

তবে হ্যাকাররা খুব কম ডিজিটাল প্রমাণ রাখায় মার্কিন সরকার হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে দায়ী করতে সক্ষম হবে না। এ বিষয়ে এফবিআই মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতার জোরালো ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এই সাইবার যুদ্ধ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন জ্বালানির উচ্চমূল্য মার্কিন রাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৭৫ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে এই ধরনের হ্যাকিং ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দারা আগে ইরানের সাইবার সক্ষমতাকে রাশিয়া বা চীনের তুলনায় দুর্বল মনে করলেও বর্তমানে সেই ধারণা পাল্টেছে। পিডব্লিউসি-র থ্রেট ইন্টেলিজেন্স টিমের পরিচালক অ্যালিসন উইকফ জানান, গত ১৮ মাসে ইরানি হ্যাকাররা অনেক বেশি দ্রুতগতির এবং এআই (AI) চালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। তারা এখন ‘হ্যান্ডালা’র মতো বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ‘হ্যাক-অ্যান্ড-লিক’ (তথ্য চুরি ও প্রকাশ) অভিযান চালাচ্ছে।

মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএ-র প্রাক্তন পরিচালক ক্রিস ক্রেবস সতর্ক করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনগুলোতেও ইরান বড় ধরনের তথ্যগত হামলা (Information Operations) চালাতে পারে। তিনি মনে করেন, সরাসরি ভোট ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা ইরানের জন্য অনেক সহজ এবং সাশ্রয়ী।

ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের প্রধান ইয়োসি কারাদি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের সাইবার হামলার গতি ও সমন্বয় নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও তাদের প্রচলিত হামলাকে আরও শক্তিশালী করতে সাইবার অভিযান ব্যবহার করছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন কেবল ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আটলান্টিকের ওপারের সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অবকাঠামোকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

সূত্র: সিএনএন