Image description

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত একটি নৌ-ঘাটের সিঁড়ি এখন কঙ্কালসার ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতায় জরাজীর্ণ এই সিঁড়িটি স্থানীয় ৫৫টি পরিবারের কয়েক’শ মানুষের জন্য রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

ভোগান্তির চিত্র সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ঘাটের সিঁড়িটি ভেঙে মাটির সাথে ঝুলে আছে এবং অনেক স্থানে ভেতরের রড বেরিয়ে এসে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। জরাজীর্ণ ও ভাঙা এই সিঁড়ি বেয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং মুমূর্ষু রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

​স্থানীয়দের জেলা সদর, কাপ্তাই, চট্টগ্রাম কিংবা রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের একমাত্র পথ এই নৌ-ঘাটটি। প্রতি হাটবাজারে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ এবং স্বাভাবিক দিনেও অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ নিয়মিত এই ঘাট ব্যবহার করেন। যাতায়াতের এই চরম ভোগান্তিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক রোগীরা, যাদের জরুরি চিকিৎসার্থে হাসপাতালে নেওয়ার সময় এই সিঁড়ি পার হওয়া যেমন দুরুহ, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী আমতলী চুলামনি বৌদ্ধ বিহারে আসা-যাওয়া করা বৌদ্ধ ভিক্ষু, শ্রমণ ও পুণ্যার্থীদেরও নিয়মিত এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

​গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সিঁড়িটি দীর্ঘ সময় যাবত বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এর রডগুলো মরিচীকায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যার কারণে এটি আর পুনর্মেরামত করার উপযোগী নেই। তাই কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-ঘাটের সিঁড়িটি সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন আমতলী গ্রামবাসী।

​১২২নং কুতুবদিয়া মৌজার হেডম্যান সাধন চাকমা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিকল্প পথ না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এই বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ার পর থেকে এই ভোগান্তি আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কায় তিনি এটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

​৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবু লাল তঞ্চঙ্গ্যা সিঁড়ির শোচনীয় অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেছেন, সিঁড়িটি অনেক পুরানো হওয়ায় এর বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং আগামী অর্থ বছরের বাজেটে এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রাখবেন বলে জানান।

​এ বিষয়ে ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান বলেন, সিঁড়ির একটি অংশ দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকার কারণে মূলত এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ভবিষ্যতে সুযোগ অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।