মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচিত সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির খবর সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার পরপরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পুনরায় মার্কিন বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনাকে নতুন এক চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কোনো একক দেশের হাতে থাকবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ‘খসড়া সমঝোতা’র দাবিকে তিনি কার্যত প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং কেউ এর একক নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।” এসময় তিনি ওমানকেও সতর্ক করে বলেন, তাদের অবশ্যই সবার মতো আচরণ করতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে বুধবার (২৭ মে) ইরান দাবি করেছিল, ওমানের মধ্যস্থতায় একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে, যার মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য ও নতুন সামরিক পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আবারও মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে গত সোমবারও যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইনবাহী স্পিডবোট লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল, যাকে ওয়াশিংটন ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ বলে দাবি করছে।
মার্কিন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, “ট্রাম্প একদিকে সমঝোতার কথা বলছেন, অন্যদিকে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। এটি মূলত তাদের কৌশলগত অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা। তবে এসব হুমকি ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব রক্ষার দাবি থেকে সরাতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন তিন মাসে পদার্পণ করল। তিন মাসের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থানের পর এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments