Image description

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। মার্কিন ডলারের দরপতন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা অবসানের নতুন আশাবাদ—সব মিলিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা ও প্ল্যাটিনামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক বা স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) ৪,৪৬৪ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার প্রাইস শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৪৯১ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। ডলারের মান দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ এখন আরও সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের এই দাম বাড়ার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—উভয় কারণই সক্রিয়। প্রথমত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করতে প্রস্তাব পাস হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি ফিরেছে। এছাড়া তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, "স্বর্ণের বাজার এখন পুরোপুরি ডলার ও তেলের ওঠানামার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।" অন্যদিকে, স্টোনএক্সের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ম্যাট সিম্পসন এক সাহসী পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছেন, বছর শেষে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫,০০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার একটি শক্তিশালী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্বর্ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১,৮৭৮ দশমিক ৫০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১,৩০৯ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলো কী হয়, কারণ এর ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের আগামী দিনের স্থিতিশীলতা।

মানবকণ্ঠ/আরআই