Image description

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে জাতিগত সহিংসতার আগুন যেন কিছুতেই নিভছে না। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে রাজ্যের কামজং জেলার কুলতুক গ্রামে সন্দেহভাজন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অতর্কিত হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা গ্রামটির অন্তত ছয়টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত একটি দল গ্রামটিতে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও হামলা শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই গ্রামবাসী নিহত হন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কামজং জেলায় এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কাংপোকপি জেলার কারাম ভাইফেই গ্রাম থেকে নিখোঁজ ছয় নাগা বেসামরিক নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ইম্ফলের জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে আনা হলে পুরো রাজ্যজুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার সন্ধ্যা থেকেই নিহতদের স্বজন, নাগা সম্প্রদায়ের নেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। গভীর রাতে মরদেহবাহী গাড়ি হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে আবেগঘন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা ও শোকাহত স্বজনদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বিক্ষোভ ও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সেনাপতি জেলার কারং এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা বেশ কয়েকটি পণ্যবোঝাই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি, নাগা পিপলস ফ্রন্টের (NPF) একটি কার্যালয়েও ভাঙচুর ও হামলা চালায় ক্ষুব্ধ জনতা।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মণিপুরের প্রভাবশালী সংগঠন 'ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল' (UNC) ১১ জুন সকাল ৬টা থেকে ১২ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, মণিপুর রাজ্য সরকার ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা মরদেহ গ্রহণ করবে না।

নাগা সম্প্রদায়ের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’ (SoO) চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করা।

অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।

কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট-প্রেসিডেন্ট (KNF-P) গ্রুপকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা।

মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনকে তার পদ থেকে অপসারণ করা।

নতুন করে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই উত্তেজনা মণিপুরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই